English French German Italian Portuguese Russian Spanish

Related Articles

Search

জলাশয় ভরাট চলছেই

Print
AddThis Social Bookmark Button

 

 

প্রণব বল | তারিখ: ০৪-১১-২০১২

 


চট্টগ্রামে একের পর এক জলাশয় ভরাট চলছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দিঘি বা পুকুর ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। আসকার দীঘি, মুন্সি পুকুর, বলুয়ার দীঘি, মোহাম্মদপুরের বড় পুকুরসহ অসংখ্য জলাশয় ভরাটের চেষ্টা চললেও সেগুলো রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। জলাশয় ভরাটের কারণে একদিকে যেমন অগ্নিনির্বাপণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ওয়াসার পানি সংকটের মাঝে মানুষের বিকল্প পানির উৎসও কমছে। এসব জলাশয় এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। বিশেষ করে গোসল করা এবং কাপড়সহ অন্যান্য গৃহস্থালি জিনিসপত্র ধোয়ামোছার কাজে ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দখল-দূষণে এসব জলাশয় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জলাশয় রক্ষা আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। সরেজমিনে বিভিন্ন জলাশয় ঘুরে দেখা গেছে, দিঘি কিংবা জলাশয় ভরাটে ভূমিদস্যুরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কৌশলে নানা কায়দায় জলাশয়গুলোকে মজা কিংবা পরিত্যক্ত করে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আস্তে আস্তে ভরাট করা হচ্ছে। আর চারদিক থেকে দখল করা হচ্ছে জলাশয়ের ভরাট করা অংশ। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বেশির ভাগ জলাশয়ের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে কিছু কিছু জলাশয় ভরাটের অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। এ রকম জলাশয় ভরাট রোধ করতে হলে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার।’ জানা গেছে, আসকার দীঘিটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে কচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হয়ে রয়েছে। বছর দুয়েক আগে একবার সিটি করপোরেশন এটি পরিষ্কার করলেও ছয় মাস পরেই তা আবার কচুরিপানায় ভরে যায়। দীঘির পাড়ের ভেতরের অংশে গড়ে উঠেছে কয়েক শ বস্তিঘর। বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা ও মাটি ফেলে চারদিক থেকে পানির অংশ ভরাট করা হচ্ছে। আর ভরাট করা অংশে গড়ে তোলা বস্তিঘর তৈরি করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বলুয়ার দীঘিটি চারদিক থেকে ভরাট করা হচ্ছে কৌশলে। দিঘির বিভিন্ন পাড়ে চলছে দখল। এরই মধ্যে দক্ষিণ পাড়ে একটি ভবন গড়ে উঠেছে পাড় ও পানির অংশ দখল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পশ্চিম পাশে খায়ের আহমদ, উত্তর পাড়ে আবদুল হাকিম, পূর্ব পাড়ে বুলেটসহ বিভিন্ন ব্যক্তি নানা কায়দায় দখল করছেন জলাশয়টি। দীঘির পূর্বদিকের ঘাটের পাশে পানিতে খুঁটি গেড়ে ময়লার স্তূপ করে ভরাট যেমন হচ্ছে তেমনি পানির ওপর খুঁটি দিয়ে টিনশেড ঘর করে মাটি ফেলে ভরাটও চলছে। বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘দীঘিটি ভরাটের জন্য নানামুখী চেষ্টা চলছে। আমরা করপোরেশন থেকে দীঘির চারপাশে সীমানা দেয়াল করে দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করব বলে জানিয়েছিলাম। কিন্তু দীঘির অংশীদারেরা এখনো আসেননি। এখন ওটা চারদিক থেকে দখল হচ্ছে।’ একইভাবে শুলকবহরের মুন্সি পুকুর, মোহাম্মদপুরের বড় পুকুরও ভরাটের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় লোকজন জানান, কিছু ভূমিদস্যু রাতের আঁধারে এসব জলাশয়ে মাটি ফেলে ভরাটের চেষ্টা করছে। তবে মুন্সি পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত সম্প্রতি স্থগিতাদেশ দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) মুন্সি পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে রিট করলে আদালত এই স্থগিতাদেশ দেন। জানা গেছে, জলাশয় সুরক্ষা আইন থাকলেও এর ন্যূনতম প্রয়োগ নেই। যার কারণে একের পর এক দিঘি বা পুকুর ভরাট করার সুযোগ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ১৯৩৯ সালের পুকুর উন্নয়ন আইনে বলা হয়েছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পতিত হিসেবে চিহ্নিত কোনো দিঘি বা পুকুরের প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক কাজ করে তা মাছ চাষের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুকুর মালিককে নোটিশ দেবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ দেওয়ার পর যদি পুকুর মালিক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাছচাষ না করেন, তাহলে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট পুকুরটিকে একটি পতিত পুকুর হিসেবে ঘোষণা করে ওটা অধিগ্রহণ করবেন। কিন্তু পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকা আসকার দীঘি, বলুয়ার দীঘি কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ের ক্ষেত্রে এখনো এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসও দিঘি-জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে নোটিশ কিংবা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকেও এসব জলাশয় রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরও নিয়মিত পানি পরীক্ষা করে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘একসময় চট্টগ্রামে অনেক জলাশয় ছিল। দিন দিন এর সংখ্যা কমছে। আমরা মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মালিককে নোটিশ দিই। অগ্নিনির্বাপণের জন্য এখন চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী ছাড়া পানি সংগ্রহের আর তেমন কোনো উৎস নেই।’

 

 

 


Source : Prothom Alo

| + - | RTL - LTR