English French German Italian Portuguese Russian Spanish

Related Articles

Search

সীতাকুন্ডে পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ : ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

Print
AddThis Social Bookmark Button

 

 

 

17th April, 2013

 

 

 

 

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) থেকে সৌমিত্র চক্রবর্তী : সীতাকুন্ডে ৫শ’ বছরের প্রাচীন পৌরানিক স্মৃতিবিজড়িত গঙ্গাধার পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহএলাকার একটি প্রভাবশালী একটি চক্র। এ ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভেরসঞ্চার করেছে। আর খোদ রক্ষকরাই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রকাশ্যে সুবিশালদেবোত্তর সম্পত্তি গিলে খাবার চক্রান্তে লিপ্ত হলেও প্রশাসন নির্বিকার।


স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, সীতাকু- মহাতীর্থের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাড়বানলের (বাড়বকু-) জ্বালাময়ীকালী বাড়ির মালিকানাধীন আনুমানিক ৫শ’ বছরের প্রাচীন গঙ্গাধার পুকুরটি দখল করেসেখানে সুবিশাল মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছে একটি প্রভাবশালী চক্র।


সরজমিনেঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাড়বকু- বাজার সংলগ্ন পুকুরটির মধ্যে পাকাস্থাপনা করে বিরাট মার্কেট নির্মাণ চলছে। এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানছাদাকাত উল্লাহসহ একটি প্রভাবশালী চক্র পুকুরটি দখল করে একেবারে অবৈধভাবে এইমার্কেট তৈরি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এটি এলাকার শতশত বছরের প্রাচীন একটি পুকুর। মহাতীর্থ বাড়বানলের সম্পত্তি এটি। এই জায়গা মন্দিরেরসেবায়েতরা দেখাশুনা করেন। কিন্তু জায়গাটি বিক্রি বা হস্তান্তর করার অধিকার কারোনেই। আর পাকা স্থাপনা তো হতেই পারে না। কিন্তু চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ লোকজননিয়ে কিভাবে এসব করছেন তা আমাদের জানা নেই। পুকুরটি বাজারের মধ্যে হওয়ায় এটি দখল বামার্কেট নির্মাণের কাজের কথা সবাই জানে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, একসময় বাজারে কোন অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে গঙ্গাধার পুকুরেরপানি দিয়ে তা নেভানো হতো। কিন্তু এখন থেকে এ ধরনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস সেভানোরজন্য পানিও পাবে না। পাশাপাশি জলাশয় ভরাটে পরিবেশের ক্ষতি তো হবেই। জানা যায়, এসম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বাড়বানল মহাতীর্থের সেবায়েতগণ। এ বিষয়েজানতে গেলে তীর্থ ভূমি জ্বালামুখী কালী বাড়ির সেবায়েত স্মৃতি লতা ভারতী ও শ্যামলালভারতী দুলাল বলেন, এ তীর্থের সকল সম্পত্তি দেবোত্তর। দেবোত্তর সম্পত্তি কখনো বিক্রিবা হস্তান্তর করা যায় না। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষেরকাছ থেকে এ সম্পত্তি কিনেছেন দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে দখল করে ফেলেছেন। তারা আরোবলেন, বর্তমানে যেখানে মার্কেট করার অপচেষ্টা হচ্ছে সে গঙ্গাধার পুকুরটির আয়তন ১.৬৯একর। এটি ছাড়া আরো মহাতীর্থের আরো ৩টি পুকুর দখল করে ফেলেছে দুষ্কৃতিকারী চক্র।শুধু তাই নয়, তীর্থের জায়গায় বেশকিছু ভাড়া ঘর আছে। চক্রটি সেসব ঘরে আগুন লাগিয়েউচ্ছেদ করে জায়গাটি দখল করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। এভাবে বাড়বকু- তীর্থের১৮.২২ একর সম্পত্তির মধ্যে ৯ একরই বেদখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময়েমামলাও করেছেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট ১৩ জনসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে তারা মহাতীর্থের সম্পদহরিলুটে মেতেছে। সেবায়েতগণ অবিলম্বে এই তীর্থের মূল্যবান সম্পদ রক্ষা ও মার্কেটনির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাধারপুকুরটি ভরাট করে সেখানে মার্কেট নির্মাণের কথা স্বীকার করেন বাড়বকু- ইউপিচেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পুকুরটি বহুবছর আগেআমার বাবা, কাকা, জেঠাসহ কয়েকজন কিনেছিলেন। সেই সূত্রে আমরা মালিক হয়ে নিজের জায়গায়মার্কেট করছি। দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় হয় কিনা এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, মোহন্তরা (সেবায়েত) বিশেষ প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে বিক্রি করতে পারেন।সেভাবে তারা বিক্রি করলে আমাদের পূর্বপুরুষরা ক্রয় করেছেন। এ বিষয়ে সীতাকু- উপজেলানির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুল ইমরান বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।তাই আমি বিষয়টি জানি না। আমি দু’পক্ষের সাথে কথা বলে দেখব আসলে ঘটনাটা কি। তারপরঅবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 


 

 

Source: dailyinqilab

 

 


 

 

 

{jcomments on}

| + - | RTL - LTR